গোপা মিত্র
মুসৌরি
অনেকদিন পর ‘আমার ভ্রমণ বৃত্তান্ত’ আবার লেখার অবতারণা, ‘কুইন অফ হিল্স’ মুসৌরির কথা লিখব বলে – গত ডিসেম্বরের (২০২৫) প্রায় শেষে দিল্লী প্রবাসী বোন ও ভগ্নীপতি আনু আর সুনীতের সঙ্গে গিয়েছিলাম সেখানে, আপাততঃ এটাই আমার শেষ পাহাড় ভ্রমণ। জানি না, আবার কখনো আমার, সাদা পাহাড় দেখার সুযোগ হবে কিনা – কারণ বয়স তো অনেক হল, তাই আমার আপনজনদের সকলেরই বক্তব্য, অনেকবার তো দেখা হল, এবার আমার শীতের পাহাড় দেখার নেশা থেকে বেরিয়ে আসাই উচিত। যাক্ এবারের শীত তো কেটেই গেল, পরের শীতের কথা নাহয় পরেই ভাবব!
বছরের শেষে যখন দিল্লী যাওয়া ঠিক হল, তখনই আনুকে বলেছিলাম, এবারও কি কোনো বরফ চূড়া দেখতে পাব? আনু অবশ্য আমার বা কল্যাণের বয়সের কারণে একটু ইতস্ততঃ করেছিল, তবুও মুসৌরিতে কদিনের একটা ট্রিপের ব্যবস্থাও করেছিল। মুসৌরি ঠিক করার পেছনে আনুর অবশ্য একটা চমৎকার যুক্তি ছিল – দিল্লী প্রবাসী হওয়ার পর আনু সুনীতের সঙ্গে আমাদের প্রথম ভ্রমণ মুসৌরিতে। আজ থেকে সে কত বছর আগের কথা- আমার মেয়ে তখন খুবই ছোট। সেই স্মৃতিতেই আবার একবার আমাদের মুসৌরি যাওয়া।
২০০৫ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মুসৌরি ইংরেজদের হাতে রূপ পায় আধুনিক এক শৈলশহরে।
প্রথমবার অনেক উঁচুতে যেখানে ছিলাম, ‘হোটেল হিমালয়ান ক্লাব’ এবারও আনু আমাদের সেখানেই থাকার ব্যবস্থা করেছিল। দিল্লী থেকে তখন যে রাস্তা দিয়ে গিয়েছিলাম, এবার আর সেই রাস্তা দিয়ে নয়, দিল্লী দেরাদুন এক্সপ্রেসওয়ে ধরে খুব মসৃণভাবেই পৌঁছে গেলাম, মুসৌরি। তবে দেরী অবশ্য কিছুটা হয়েছিল, দিল্লীর কুয়াশার কারণে –সামনের কিছুই প্রায় দেখা যায় না, আস্তে আস্তে লাইন না ভেঙে গাড়ী চালানো।
ল্যান্ডুর বাজার থেকে অনেকটা উপরে উঠলে তবেই দেখা মিলল ‘হোটেল হিমালয়ান ক্লাব’এর। হোটেলটা অবশ্য খুবই সুন্দর, বেশ বড় আর খোলামেলা – তবে আগেরবারের সেই কাচের ঘরের থেকে দেখা চারিপাশের দৃশ্যাবলী এবার একেবারেই অদৃশ্য, হোটেলের চারিপাশে এখন শুধু বড়ো বড়ো বাড়ী আর হোটেল। যে রাস্তা দিয়ে আমরা রোজ ওঠানামা করতাম এখন সেই রাস্তা এতটাই ঘিঞ্জি হয়ে গেছে যে একটা গাড়ী গেলে মানুষজনকে কোনো বাড়ী বা দোকানে প্রায় ঠেসে যেতে হয়।
গাড়ী ছিল সঙ্গে, তাই কোনোরকমে হোটেলে তো পৌঁছনো গেল, কিন্তু উপরে উঠেই আমরা সবাই বুঝতে পারলাম, কম বয়সে যেটা সম্ভব ছিল, এখন এই বয়সে এসে আমাদের পক্ষে রোজ এখান থেকে পায়ে হেঁটে উপর নিচ করা একেবারেই অসম্ভব– এখানে থাকলে আমাদের আর মুসৌরী বেড়ানো হবে না শুধুমাত্র হোটেলেই বসে থাকতে হবে। আপাততঃ কিছু জলখাবার আর চা খেয়ে মালপত্র দুটো ঘরে রেখে, আনু আর সুনীত বেরিয়ে গেল নিচে ম্যালের কাছে একটা হোটেলের সন্ধানে-ভাগ্যিস আনু, শুধু একদিনের জন্যই হোটেল বুকিং করেছিল, নাহলে হয়তঃ এখান থেকে অন্য হোটেলে যাওয়ার কথা ভাবাই যেত না – আনু ভেবেছিল, এখানে আমাদের ভালো না লাগলে আমরা অন্য কোথাও চলে যেতেও তো পারি–তাই একদিনের ব্যবস্থা।
বেশ কিছুক্ষণ পরে দুজনে ফিরে এলো হাঁপাতে হাঁপাতে, ম্যালে অবস্থিত গাড়োয়াল মন্ডলের ট্যুরিষ্ট লজের বুকিং সেরে – চার্জ বেশি হলেও এর অবস্থান যেমন সুবিধাজনক, হোটেলটাও তেমন সর্ব সুবিধাযুক্ত।
পরদিন সকালের ব্রেকফাষ্ট সেরে আমরা পৌঁছে গেলাম ট্যুরিজমের হোটেলে। দারুণ ঘর, কাচের জানলার মধ্যে দিয়ে রোদ্দুর শুধুমাত্র ঘরের সোফাগুলোই নয় বিছানাও গরম করে তুলছে। হোটেলের সঙ্গেই রেস্তোরাঁ, কিন্তু খাবারের প্রচন্ড দাম। না, এখানে আমাদের খাওয়া চলবে না, একটু এগিয়ে হাঁটাপথে লাইব্রেরী বাজার –সেখানে অনেক রেস্তোরাঁ, দেখা যাক্ সেখানে কেমন খাবার পাওয়া যায়।
ম্যাল থেকে হাঁটতে হাঁটতে আমরা পৌঁছে গেলাম জম্জমাট লাইব্রেরী বাজারে। প্রচুর হোটেল রেস্তোরাঁর মধ্যে থেকে এবার আমাদের পছন্দসই একটা খাবার জায়গা মিলেই গেল, তবে এটা নিরামিষ রেস্তোঁরা। আমাদের অবশ্য তাতে কোনো অসুবিধা নেই, এমনিতে বেড়াতে বেরোলে আমরা যেমন ভাত একেবারেই বর্জন করি, তেমন মাছ মাংস যে রোজ খেতেই হবে, এমন কোনো প্রতিজ্ঞাও আমরা করে বেরোই না। এর আশেপাশের খাবার জায়গাগুলোতে দেখলাম, মাছ মাংস পাওয়া যায় বলে ডাকাডাকি করলেও খাবার লোকের বড়ই অভাব। কিন্তু এখানে এত ভীড় যে লোকে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ভিতরে এদের মেনুকার্ডে অনেক রকমের মেনু- আমরা যেগুলো সচরাচর বাড়ীতে খাই না, এবার সেগুলোই, ব্রেকফাষ্টের জন্য রোজ বেছে নিতে লাগলাম –ছোলে বাটোরা, পুরি তরকারী বা আলু, কপির পরোটা। দুপুরের খাবারে চাওমেন, ফ্রায়েড রাইস, আর রাতে? – রোজ রুটী সঙ্গে কখনও ডাল সব্জী বা পনিরের তরকারী। সন্ধ্যায় এখানে গরম গরম জিলিপি আর রাবড়ীও বিক্রি হয়। আমরা সন্ধ্যায় বেরিয়ে সেগুলোও ট্রাই করলাম।
যাক্ থাকা খাওয়া এসবের কথা তো হল, এবার আসি বেড়ানোর কথায়। সন্ধ্যে বেলায় কন্কনে ঠান্ডার মধ্যে রোজ আমাদের বেড়ানো ম্যালের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত হয়ে লাইব্রেরী বাজার পর্যন্ত। রেলিং দিয়ে ঘেরা রাস্তার ধারে মাঝেমধ্যেই রয়েছে, বসার বেঞ্চি। ক্লান্ত হলে একটু বসে আবার শুরু হত আমাদের হাঁটা –আমাদের সঙ্গেই তখন হেঁটে চলেছে দূরের আবছা পাহাড়, নিচের আলোকজ্জ্বল দুন উপত্যকা, উপরের তারা ঝল্মলে কাল্চে নীল আকাশ–আর আমাদের পাশ দিয়ে তখন বয়ে চলত, মানুষের সঙ্গে, গাড়ী বাইক বা রিক্সার স্রোত। হ্যাঁ, এবার এসে দেখলাম, টাকা দিলেই ম্যালে গাড়ী নিয়েওঠার অনুমতি মিলছে, সঙ্গে বাইকও চলছে আর তাদের সঙ্গে জুড়েছে ই রিক্সা – যা চলছে, ম্যাল আর লাইব্রেরী বাজারের মধ্যে। আশেপাশের আলো ঝল্মলে দোকান গুলোতে তখন চলছে খরিদ্দারদের দরদস্তুর। এসব সঙ্গে নিয়েই শীত পোষাকে আপাদমস্তক মুড়ে সেই কন্কনে ঠান্ডার মধ্যে দিয়ে আমাদের হেঁটে চলা নিজের মত করে, নিজের আনন্দে, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাদের রাতের খাওয়ার সময় হয়। তারপর একেবারে খেয়েদেয়ে হোটেলে ফেরা।
বিদেশে দেখা যায় এমন এক দৃশ্য, যা এবার এখানে এসে দেখলাম- ম্যালের আলোছায়ামাখা রাস্তায় দাঁড়িয়ে একটি ছেলে জনপ্রিয় হিন্দী আর ইংরাজী গান গাইছে, হাতে তার মাইক্রোফোন, সামনে একটা টুপি রেখে। বেশ কিছু দর্শক শ্রোতা জমে গেছে তার গান শুনতে, গান শোনা হয়ে গেলে সামনে রাখা টুপিতে টাকা রেখে চলে যাচ্ছে। দেখলাম, প্রতিদিনই গায়ক বা শ্রোতা বদলে যাচ্ছে।
ম্যাল রোডের প্রায় মধ্যভাগে রয়েছে কেবল্ কার পয়েণ্ট, যেখান থেকে কেবল কার চড়ে যাওয়া যায়, মুসৌরির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গান হিলে(৬৬৪০ ফুঃ)। গানহিলে ওঠার সময় যেমন নিচের সমগ্র মুসৌরি চোখের সামনে ধরা দেয় – তেমন পাশ দিয়ে চলে যায় একাধিক হোটেল, বাড়ী ঘর। গান হিলের ওপরের চাতালের চারপাশে রয়েছে, একাধিক দোকান আর একটা মন্দির। আমাদের অবশ্য এসব দোকান দেখার কোনো আগ্রহ ছিল না।আমরা এগিয়ে চললাম পাহাড় চূড়ার খোঁজে। হিলের এক জায়গা থেকে চারিপাশের ৩৬০ ডিগ্রি বিস্তারে গাড়োয়াল হিমালয়ের বরফ চূড়া গুলো – বন্দরপুছ(যমুনোত্রী), গঙ্গোত্রী, কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, নন্দা দেবী এবং আরো কয়েকটি চূড়া যেগুলো দেখলাম, সব যেন সামনে চলে এলো।– বেশ কিছুক্ষণ হিমলচূড়াগুলো ভালো করে দেখে, তৃপ্ত হয়ে আমরা আবার রোপ ওয়ে চড়েফিরে এলামনিচের ম্যাল রোডে।
মুসৌরির মধ্যভাগে লাইব্রেরী চক্ থেকে কুলরী বাজার পর্যন্ত ৩ কিমি দীর্ঘ ক্যামেল ব্যাক রোডে গাড়ীর প্রবেশ নিষিদ্ধ – ম্যালের ভীড়ভাট্টা এড়িয়ে নিজের মধ্যে ডুবে গিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুন ভ্যালী আর চারিপাশের হিমালয়ের প্যানোরামিক দৃশ্য উপভোগ করতে হলে এই রাস্তা দিয়ে অবশ্যই হেঁটে যেতে হবে। প্রকৃতির আশ্চর্য সৃষ্টি এই রাস্তা যেন এক উটের পিঠের মত বা বলা যায় কুঁজের মত। বর্তমানে এখানে একটি পার্ক হয়েছে, যেখান থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দারুণ ভাবে উপভোগ করা যায়। ম্যাল রোড থেকে একটু হাঁটলেই এখানে পৌঁছনো যায়।
মুসৌরির অন্যতম আকর্ষণ কেম্পটি ফল্স ম্যাল রোড থেকে ১২ কিমি দূরে অবস্থিত। প্রথমবার যখন এসেছিলাম চারিপাশে পাহাড় বেষ্টিত এই জলপ্রপাতের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলাম। পাহাড়ে ধাপ কাটা পিছল সিঁড়ি দিয়ে খালি পায়ে খুব সাবধানে অনেকটা নিচে নেমে পৌঁছেছিলাম ফল্সের কাছে। তারপর সেখানে জলের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ খেলা করে ভিজে পায়ে ঐ সিঁড়ি দিয়েই আবার উঠে এসেছিলাম উপরে – নামা ওঠার একটাই সিঁড়ি হওয়ার জন্য সেই সিঁড়ি সবসময়ই পিছল হয়ে থাকছিল।
এখন সেই কেম্পটি ফল্সে সিঁড়ি দিয়ে না নামলেও চলবে, কারণ রোপ ওয়ে হয়ে গেছে। চারিপাশে দোকান বাজারের হৈ হট্টগোল কাটিয়ে নিচে নামলে দেখা যায়, এক জায়গায় সেই জলধারা ঘিরে চৌবাচ্চারমত করে দেওয়া হয়েছে, আর জনতার ভীড় সেই জলে স্নান করছে –কেম্পটি ফল্সের যে শান্ত নিরিবিলি সৌন্দর্য দেখে একদিন মুগ্ধ হয়েছিলাম আজ তা একেবারেই অদৃশ্য।
কেম্পটি ফল্সের সৌন্দর্য অনেকটা নষ্ট হয়ে গেলেও ভাট্টা ফল্সের এখনও ততটা বানিজ্যিকীকরণ হয়ে ওঠেনি। এই ফল্সের অস্তিত্ব অবশ্য আগে জানা ছিল না – এবারেই প্রথম জানলাম। সবুজ প্রকৃতির মাঝে মুসৌরি থেকে প্রায় সাত কিমি দূরে ভাট্টা গ্রামে রয়েছে এই ফল্স। তবে কেম্পটি ফল্সের জলধারা প্রায় ৪০ ফুট উপর থেকে নিচে আছড়ে পড়লেও এই ফল্সের উচ্চতা অপেক্ষাকৃত কম। তবে এর বিস্তার অনেক বেশী- একাধিক ধাপে এটি নিচে নেমে এসেছে। এই প্রপাতের চারিপাশের দৃশ্যাবলী খুব সুন্দর। পাশেই রয়েছে এক প্রকৃতি পার্ক– সেখানে নানারকম খেলার ব্যবস্থা। ফল্সের জলধারা নিচে এক খালের মধ্যে দিয়ে নিয়ে এসে বোটিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও কিছু অ্যাড্ভেঞ্চার রাইড –যি্প লিনিং, স্কাই সাইক্লিংও, এখান থেকে করা যাচ্ছে, দেখলাম। ফল্সে পৌঁছতে নিচে নেমে বেশ কিছুটা উঁচু নিচু চড়াই উৎরাই দিয়ে যেতে হয়। তবে বিকল্প ব্যবস্থাও রয়েছে – রোপওয়ে, একেবারে ফল্সের কাছে পৌঁছে দেয়।
প্রথমবার পারলেও, এবার আর মুসৌরির সর্বোচ্চ লাল টিব্বায় ওঠার সাহস হল না – বয়সের সঙ্গে পায়ের জোরও তো অনেকটা কমে গেছে!সেখান থেকে চারিপাশের নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলী আর তুষারাবৃত পাহাড় চূড়াগুলি আমাদের চোখে অধরাই থেকে গেল।
মুসৌরি থেকে গাড়ী নিয়ে একদিন আমরা পৌঁছে গেলাম, ধনৌল্টি। গাড়োয়াল হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত উত্তরাখন্ডের এই ছোট্ট শৈলশহরটির উচ্চতা ২২৮৬ মিটার। এখানেই ২৭৫৬ মিটার উচ্চতায়, বিখ্যাত সুরকান্দা দেবীর মন্দির । কথিত আছে সতীর ছিন্ন শির পড়েছিল এখানেই। তাই এই জায়গাটাকে হিন্দুদের পবিত্র সতীতীর্থ বলে মানা হয়। এছাড়াও উচ্চতা হেতু এখান থেকে হিমালয় পর্বতমালার যে চমৎকার প্যানোরামিক দৃশ্য দেখা যায় তা একেবারেই তুলনা রহিত। তবে শুধুমাত্র উপর থেকেই নয়, ধনৌল্টি আসার পথেও একাধিকবার হিমালয়ের তুষারাবৃত পর্বতশৃঙ্গগুলির যে সৌন্দর্য আমরা দেখেছিলাম তা বর্ণণাতীত।
প্রথমবার ধনৌল্টি এসে আমার ছোট্ট মেয়েকে নিয়েই আমরা এই মন্দিরে হেঁটেই উঠেছিলাম। এবার অবশ্য রোপওয়ে হয়ে গেছে।
কদিনের মুসৌরি ভ্রমণ শেষ। এই কদিন কন্কনে শীতের ঠান্ডা উপভোগ করে, চারিপাশের দৃশ্যাবলী, বিশেষ করে হিমালয়ের শুভ্র তুষারাবৃত শৃঙ্গগুলির অতুলনীয় সৌন্দর্য মনের মধ্যে ভরে নিয়ে আমরা ফিরে চলেছি দিল্লী – সেখান থেকেই কদিন পরে আমরা আবার ফিরে যাব আমাদের কলকাতার সেই কর্মব্যস্ত একঘেঁয়ে জীবনে, আর স্বপ্ন দেখব আবার কবে দেখা হবে তুষারশুভ্র হিমালয়ের সঙ্গে!
— মুসৌরি পর্ব সমাপ্ত —
গোপা মিত্র
ফিজিক্স অনার্স। একসময়ে কিছুদিন শিক্ষকতা করলেও, প্রকৃতপক্ষে গৃহবধূ – কিন্তু পায়ের তলায় সর্ষে। ভ্রমণের নেশা প্রবল। ভারতের বাইরে কোথাও না গেলেও দেশের মধ্যেই প্রচুর ঘুরেছেন। পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল, ঐতিহাসিক স্থান – কোনোও কিছুই বাদ নেই। এখনও সুযোগ সুবিধে হলেই বেরিয়ে পড়েন। দু-কলমের জন্যে জীবনে প্রথমবার কলম ধরা।
